করোনার প্রভাবে হার্ড ইমিউনিটি তত্ত্ব নিয়ে জোর জল্পনা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: শুরুর দিকে করোনা আতঙ্ক চিনের উহান থেকে ইউরোপের দিকে বাঁক নিয়েছে। তখন ফ্রান্স, স্পেন সহ আক্রান্ত ইংল্যান্ডও। গবেষক- চিকিৎসকরা করোনা ঠেকাতে গৃহবন্দি রাখার পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। ওই সময় একেবারে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে করোনার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সে সময় তাঁর হার্ড ইমিউনিটি তত্ত্ব গোটা বিশ্বে সমালোচিত হয়। তিনি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
বরিসের সেই তত্ত্বে এখন আস্থা দেখিয়েছে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স। এইমস-এর ৪ অধ্যাপকের গবেষণায় উঠে এল সেই তথ্য। অধ্যাপক চন্দ্রকান্ত এস পাণ্ডব, অধ্যাপক স্বদীপ শ্রীবাস্তব, অধ্যাপক সঞ্জয় কে রাই এবং অধ্যাপক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমত , কোভিড- ১৯ ভাইরাসের সামনে একেবারে খোলামেলা হলে তৈরি হয়ে যাবে ‘হার্ড ইমিউনিটি’। এক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী জানানো হয়েছে , মানব শরীরে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হওয়ার দুটি উপায় রয়েছে।
প্রথমটি হল -ভ্যাকসিন, যা মারণভাইরাসকে প্রতিহত করে মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচিয়ে আনার ক্ষমতা তৈরি করবে। আর অপরটি হল -পূর্ব সংক্রমণ, যা মারণভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে অ্যান্টিবডির কাজ করবে। প্রসঙ্গত ,ভারতের মতো বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়ার জন্য লকডাউন পর্বকে বেছে নিয়েছে।আবার গোটা বিশ্বের মধ্যে ভারত সবথেকে দীর্ঘমেয়াদি লকডাউন পথও বেছে নিয়েছে। সেলফ আইসোলেশন, হোম কোয়ারেন্টিন সহ সামাজিক দূরত্ব বিধি, স্যানিটাইজার ব্যবহার ও মাস্ক ব্যবহারে জোর দিয়েছে।
শিক্ষা সহ যাবতীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে ভারত। এইমস-এর চার অধ্যাপক একেবারে ভিন্ন পথে চলে হার্ড ইমিউনিটির তত্ত্ব সামনে এনেছেন। পুণের ডিওয়াই পাতিল মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিনের প্রধান চিকিৎসক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমত , স্কুল ও কলেজ খুলে গেলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। শিশু এবং যুবকদের মধ্যে থাকা ‘ফ্রেশ ইমিউনিটি’ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তুলনায় বেশি সক্ষম। আমরা যদি এই প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে পারি, তাহলে অনেকেরই প্রাণ বাঁচবে।
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি জেলায় করোনায় একটি শিশুরও মৃত্যু হয়নি। অন্যদিকে এইমস-এ সেন্টার অব কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার রাইয়ের বক্তব্য, আমরা জানি না কবে এই মারণ রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে এবং তা আদৌ কাজ করবে কিনা। এই অবস্থায় সংক্রমণই বিকল্প পথ। হার্ড ইমিউনিটি তৈরির ২টি উপায়। এক. ভ্যাকসিন। দুই. সংক্রমণে নিজেকে উম্মুক্ত করা। পাশাপাশি সেন্টার অব কমিউনিটি মেডিসিনের প্রাক্তন প্রধান ও চিকিৎসক চন্দ্রকান্ত এস পাণ্ডবের মন্তব্য ,লকডাউন নয়, হার্ড ইমিউনিটিই একমাত্র প্রতিষেধক যা কোভিড-১৯ ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারে।
হিল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক স্বদীপ শ্রীবাস্তবের মতামত, বিশেষজ্ঞরা হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে একটি বিকল্প পথের কথা বলছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকেছে, কর্পোরেট মহলেও ওয়ার্ক ফ্রম হোমের প্রবণতা বেড়েছে। এই কর্মসংস্কৃতি হয়ত তাঁদের করোনার ছোঁয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখছে তবে অন্যদিকে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও হ্রাস করছে।

